“মা-মনি, মা-মনি ওই দেখো বুগুনী বোতন, আমি নোবো” আবদারটি করেই দোকানের দিকে ছুটে গেল ছোট্ট তিতলী।
পেছন পেছন তিতলীর মাও ছুটে চললেন তার দিকে। না ছুটেই বা কি করবেন তিনি! আটকাতে হবে যে তিতলীকে। বাসা থেকে কিছুক্ষণের জন্য ছোট্ট তিতলীকে নিয়ে হাটতে বেরিয়েছেন তিতলীর মা। সাথে টাকা নিয়ে আসেননি। এমনকি সেলফোনটাও সাথে নিতে ভূলে গেছেন। মোড়ের মাথায় নতুন দোকানদার ছোট বাচ্চাদের মনোহরি বেশকিছু আইটেম নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে। আর সেটা দেখেই তিতলী আকর্ষিত হয়ে ছুটে চলেছে।
একটু চেষ্টাতেই তিতলীকে নাগালে পেয়ে গেলেন তার মা। তার ছোট্ট ঘাড়ে হাত দিয়ে তাকে আটকালেন কিন্তু ছোট্ট হলে কি হবে সে! মারাত্মক জেদী হয়ে গেছে এই ৫ বছরের মেয়েটি। তার মা তাকে কত করে বোঝচ্ছেন যে, বাসা থেকে টাকা নিয়ে আসতে হবে, সাথে টাকা নেই কিন্তু কে বোঝে বা কে শোনে কার কথা! শেষমেষ অনেক জোর করেই তিতলীকে বাসায় নিয়ে আসেন তিনি।
তিতলীর
বাবা থাকেন অস্ট্রেলিয়ায় আজ প্রায় ২ বছর হতে চলল। তিতলীর বাবা দেশের বাইরে
যাবার পর থেকে তিতলীর দাদী তিতলীর মায়ের সাথে থাকেন। তিতলীর এক ফুপী,
চাচ্চু, তিতলীর দাদী, মা পলি ও তিতলীকে নিয়ে তাদের সংসার। তিতলীর দাদু রফিক
সাহেব গত হয়েছেন ৩ বছর আগে। তিনি ছিলেন একজন কবিরাজ। জীবদ্দশায় তাঁর সাথে
ছিল কয়েকটি জ্বীন যাদের মাধ্যমে তিনি লোকের চিকিৎসা করতেন এবং আরও বিভিন্ন
সমস্যার সমাধান করতেন।